অলসতা দূর করার সেরা ১০ টি উপায়

অলসতা দূর করার উপায়

অলসতার কারণে আমরা আজকের কাজ কালকে করবে ভেবে ফেলে রাখি, শিক্ষার্থীরা রাত্রে পড়তে বসে ভাবে সকালে পড়বো, আবার এমন অনেক রোগিও পেয়েছি আমরা যারা বলেন আজ, কাল বলতে বলতে ডাক্তারের কাছে আসতে দেরি করে ফেলেছেন। যাই হোক, এই আলসেমির কারণে আমাদের নানারকম সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আমরা সকলেই চাই যেন আলসেমি দুর হয়। এজন্য এই পোস্টে গুরত্বপূর্ণ ১০ টি উপায় নিয়ে আলোচনা করবো, যার মাধ্যমে আলসেমি দূর করতে পারবেন সহজেই।

অলসতা দূর করার উপায়:

১. শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখুন:

অলসতার পিছে দুর্বল স্বাস্থ অনেকটাই দায়ী। স্বাভাবিক অবস্থায় দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালরির জোগান না থাকলে যে কোনো কাজেই অলসতা আসবে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও দেহের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি উপাদান পাচ্ছেন কিনা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এজন্য নিয়মিত দুধ, ডিম, মাছ মাংস রাখুন খাদ্য তালিকায়।

২. ঘুম থেকে উঠে গোসল করুন:

এই টেকনিকটি স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে দেবে। ঘুম থেকে উঠার পরে ঘুমের ঘোর কাটাতেই অনেকের ঘন্টাখানেক সময় পেরিয়ে যায়, তাই যদি আপনি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই গোসল করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন তাহলে অনেকটা কাজে আসবে।

৩. আলাদা গেটআপ তৈরি করুন:

আপনি যেই কাজটি করবেন, সেটি যদি এমন কাজ হয় যা প্রতিদিনি করতে হয়, তাহলে আলসেমি আসবেই, স্বাভাবিক। তাই আপনার কাজের জন্য একটা আলাদা পোশাক নির্ধারণ করুন। যখন আপনি অভ্যাসগতভাবে সেই পোশাক পরিধান করবেন তখন আপনার মস্তিস্কে নিজ থেকেই কাজ করার জন্য সিগনাল জাবে। একই সাথে যদি আরো কোনো বিষয় যুক্ত করতে পারেন, যেমন কাজের সময় পানির পাত্র, রুম সব কিছুই আলাদা, তাহলে পুরো গেটআপ আপনার মস্তিস্কে কাংখিত কাজের দিকে ফোকাস করবে বারবার।

৪. মূল কাজের মাঝে ভিন্ন কোনো কাজ রাখুন

কোনো কাজ যখন আমরা দীর্ঘ সময় ধরে করতে থাকি বা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে পড়ালেখা করলে ক্লান্ত হয়ে পরেন, অলসতা আসে। এক্ষেত্রে যখন অলসতা আসবে সে সময় কোনো ছোট কাজ করুন যেটা করতে ১/২ মিনিট সময় লাগবে। এমন কাজ আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে রাখবেন, যেমন:- কাউকে কল দেয়া, পানি পান করা, একটু হেটে আসা ইত্যাদি। এতে করে আপনার মাঝে একটি কাজ সম্পন্ন করার সাটিসফেকশন আসবে ফলে পূণরায় মনোযোগ ফিরে পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

৫. কাজগুলো ভাগ ভাগ করে রুটিন করুন:

যেকোনো কাজ যদি দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ হয়, তাহলে সে কাজে আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, অলসতা সৃষ্টি হয়। এজন্য একটা দীর্ঘ কাজকে ভেঙে ছোট ছোট করে নিন। এতে কাজের অগ্রগতি এবং ফলাফল আপনার চোখে ধরা পড়বে। একই সাথে পুরো কাজটা শেষ করার জন্য ভিতরে ভিতরে অনুপ্রেরণা পাবেন এবং অলসতা দূর হবে।

৬. ভবিষ্যতের দিকে ফোকাস করুন:

যখন অলসতা আসবে তখন কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ করে ভাবুন, যে কাজটি করছেন তা ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারলে আপনার কি লাভ হবে/ কি অর্জন করতে পারবেন। লক্ষ্যটা যদি অনেক বড় হয় তাহলে দেখবেন বিবেক বলে উঠবে যত কষ্টই হোক, কাজ শেষ করতে হবে। এতে মনোযোগ ফিরে আসবে এবং অলসতা কেটে যাবে।

৭. কালকের জন্য কোনো কাজ ফেলে রাখবেননা:

আপনি যদি কোনো কাজ আজ না করে আগামী দিনের জন্য রেখে দেন তাহলে সেই কাজে অলসতা আরো বেশি আসবে। আর যদি একবার অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন দিনের কাজ দিনে শেষ করা, তাহলে দেখবেন আপনার জীবণ থেকে অলসতার ৮০% দুর হয়ে গিয়েছে। প্রয়োজনে কাজের টার্গেট কম রাখুন তবুও দিনের কাজ দিনের মধ্যে শেষ করুন।

৮. দিনের শুরুটা সকাল সকাল করুন:

প্রতিদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন। প্রয়োজনে তারাতারি ঘুমাতে যাবেন। সকালের ফ্রেশ আবহাওয়া আপনার সারাদিনের কাজের প্রতি আলাদা শক্তি যোগাতে পারে। বিশেষ করে জারা সকালের নামাজ পড়েন তাদের ক্ষেত্রে আলসেমির পরিমাণ অন্যদের তুলনায় কম দেখা গেছে অনেক গবেষণায়। 

৯. নিজেকে পুরষ্কৃত করুন:

আপনি যখন দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ কোনো কাজ করবেন তখন আপনার মনে অনাগ্রহ তৈরি হবে, কেননা এতদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে অথচ ফলাফল অনেক দুরে, যেকারণে আজ না কাল কাল না পরশু এভাবে কাজ পিছাতে থাকবে। তাই আপনি প্রতিদিনের কাজ শেষ করতে সক্ষম হলে নিজের জন্য কিছু পুরষ্কারের ব্যাবস্থা রাখুন। হতে পারে সেটা কোনো চকলেট, বাদাম, ফুচকা ইত্যাদি। এতে অনেকটা ইতিবাচক ফলাফল পেতে পারেন।

১০.মোটিভেশন গল্প পড়ুন:

আপনি যদি যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি করতে না পারেন তাহলে মোটিভেশন গল্প বা উক্তি আপনার কাজে আসতে পারে। প্রয়োজনে অবসরে মোটিভেশন ভিডিও দেখুন এতে আপনার অলসতার জায়গায় দৃঢ় ইচ্ছা শক্তির সঞ্চার হবে।



Next Post


No Comment
Add Comment
comment url