নবজাতকের টিকা কখন? কোথায়? কিভাবে দিতে হয়?

নবজাতকের টিকা

বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারিভাবে ইপিআইয়ের মাধ্যমে শিশুদের অতি জরুরি ১০টি রোগের জন্য মোট ৬টি টিকা দেয়া হয়। সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকা কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি শিশুর সুস্থ-সুন্দর জীবণ যাপনের জন্য অবশ্যই এই টিকাগুলো দিতে হবে। কোনো কারণে বিলম্বিত হলেও পরবর্তীতে অবশ্যাই টিকা দিতে হবে। ইপিআইয়ের মাধ্যমে যে টিকাগুলো দেয়া হয় তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা, রোগ ডোচসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিচে ছক আকারে দেয়া হয়েছে।

নবজাতকের টিকার তালিকা:

নবজাতকের টিকার তালিকা নিম্নরূপ:

রোগের নামটিকার নামডোজ সংখ্যাটিকা দেয়ার সময়
শিশুদের যক্ষ্মাবিসিজিজন্মের পর থেকে
ডিপথেরিয়া,
হুপিংকাশি,
ধনুষ্টংকার,
হেপাটাইটিস-বি
হিমোফাইনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি
পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা
(ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব)
৬ সপ্তাহ
১০ সপ্তাহ
১৪ সপ্তাহ
নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়াপিসিভি টিকা৬ সপ্তাহ
১০ সপ্তাহ
১৪ সপ্তাহ
পোলিওবিওপিভি৬ সপ্তাহ
১০ সপ্তাহ
১৪ সপ্তাহ
পোলিওআইপিভি৬ সপ্তাহ
১৪ সপ্তাহ
হাম ও রুবেলাএমআর টিকা৯ মাস
১৫ মাস

উপরের টিকাগুলো দেয়ার জন্য প্রতিটি বাচ্চার আলাদা আলাদা টিকা কার্ড দেয়া হয়, যেখানে টিকান নাম তারিখ, ডোজসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়া থাকে। টিকা নেয়ার জন্য প্রতিবার টিকা কার্ড নিয়ে যেতে হবে।

ব্যাক্তিগত খরচে অন্যান্য টিকা:

ইপিআই-এর মাধ্যমে মোট দশটি রোগের জন্য ছয়টি টিকা দেয়া হয়। এর বাইরেও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় টিকা বা ভ্যাকসিন রয়েছে। নিম্নোক্ত ভ্যাকসিনগুলো ব্যক্তিগত খরচে দেওয়া যায়।
  • রোটা ডায়রিয়ার টিকা: দুইমাস বয়সের পর থেকেই রোটা ডায়রিয়ার টিকা দেওয়া হয়। ৬-৭ মাস বয়সের মধ্যেই ২-৩ ডোজ ডায়রিয়ার ভ্যাকসিন দিতে হয়।
  • ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা: নবজাতকের বয়স ৬ মাস হলে এই টিকা দেয়া যায়। নবজাতকের বাবা মায়ের নিজেদের শ্বাস বা বংশগত শ্বাস রোগের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে বাচ্চাকে প্রতিবছরেই এই টিকা দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
  • হেপাটাইটিস ‘এ’ ১ বছর বয়স হলে দিতে পারবেন। এই টিকার ২টি ডোজ: ১ম টা নেয়ার ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে দ্দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।
  • চিকেন পক্সের (জলবসন্ত) টিকা: এই টিকাও ১ বছর বয়স হবার পরে দেয়া হয় এবং ২য় ডোচ ৬ থেকে ৭ বছর বয়সে দিতে হয়।
  • দুই বছর বয়স হলে টাইফয়েড, মুখে খাওয়ার কলেরা ও মেনিনগোকক্কাল মেনিনজাইটিস টিকা দেওয়া যায়।
  • মেয়েদের বয়স ৯ বছর পূর্ণ হলে এইচপিভি টিকা দিতে হয়।

আরো একটি টিকা রয়েছে যা কিশোরী বয়সের মেয়েদের ১৫ বছর বয়স থেকে ইপিআই কেন্দ্র থেকে ধনুস্টংকার প্রতিরোধ করার জন্য দেয়া হয়। ধনুষ্টংকারের এই টিকাটির একটি ডোজ দেয়া হয়। এটি খুবি গুরত্বপূর্ণ টিকা। কিশোরী বয়সের সকল মেয়েদের ধনুস্টংকারের টিকা নিতে হবে, নতুবা পরবর্তীতে সমস্যার সম্মুখিন হবার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

নবজাতকের টিকার গুরুত্ব:

টিকা বা ভ্যাকসিন হলো ইনজেকশন যা শরীরে পুস করা হয় বা তরল আকারে মুখে খাওয়ানো হয়। টিকা ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকারক জীবাণুকে চিনতে এবং এ থেকে রক্ষা বা প্রতিরোধ করে।

জন্মগত ইমিউন সিস্টেম ও মায়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশিরভাগ জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে পারলেও, কিছু কিছু গুরুতর রোগ আছে যার থেকে তারা সুরক্ষিত থাকে না। তাই তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য টিকা দিতে হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে যে টিকা দেয়া হয় এগুলো শিশুদের জন্য নিরাপদ এবং পরীক্ষিত।

টিকা দেয়ার মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। পূর্বে আমাদের দেশে টিকা না নেয়ার কারণে অনেক শিশু মারা যেত। বর্তমানে শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে এসেছে টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে।

Next Post Previous Post