এলার্জি দূর করার উপায় কি? বিস্তারিত পড়ুন।

এলার্জি দূর করার উপায়

এলার্জি সমস্যায় ভুগছেন এমন রোগি অনেক এবং এটি একটি কমন সমস্যা। বিশেষ করে শিশুদের মাঝে এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি কমে যায়। কিছু বিধিনিষেধ মেনে সতর্ক থাকলে এলার্জি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এলার্জির কারণ:
এলার্জি কোনো রোগ নয়। আমাগের শলীরের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা বাহিরের পরিবেশ বা অন্য কিছুকে শরীরের জন্য ক্ষতিকর মনে করে অতিরিক্ত সেনসেটিভ হয়ে পড়ে, এতে শরীরের ব্যাহিক যে লক্ষণ দেখা দেয় তাকে এলার্জি বলা হয়। যেমন: হাত-পা চুলকানি চামড়া লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

কখন শরীরে এলার্জি দেখা দেয়?

  • ধুলাবালি নাকে বা চোখে প্রবেশ করলে,
  • হঠাৎ গরম বা ঠান্ডা আবহাওয়া লাগলে,
  • পরাগ রেণু বা ফুলের রেণু গাঁয়ে লাগলে,
  • বিশে্ষ কোনো গৃহপালিত পশু-পাখি কাছে আসলে, যেমন বেড়াল, কুকুর।
  • শরীর ঘামালে,
  • সূর্যরশ্মি মাথায় পড়লে,
  • মোল্ড বা ছত্রাক স্পর্শ করলে,
  • রাবারের তৈরি গ্লাভস ও কনডমে,
  • বিভিন্ন ঔষধের কারণে হতে পারে,
  • ডিটার্জেন্ট ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থে,
  • স্ট্রেস বা মানসিক চাপে হতে পারে।

এলার্জি জাতীয় খাবারের তালিকা

সচরাচর যেসব খাবারে এলার্জি হতে দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে— বেগুন, চিংড়ি, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, বাদাম,     এছাড়া ডিম ও দুধে অনেক শিশুর এলার্জি হতে দেখা যায়।

এলার্জির লক্ষণসমূহ:

এলার্জির ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

  • চামড়ায় চুলকানি,
  • র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়া,
  • শরীরের চাকা চাকা হয়ে যাওয়া বা ফুলে যাওয়া,
  • ফোস্কা পড়া ও চামড়া ঝরে যাওয়া বা চামড়া বদলানো অনেকে বলে,
  • চোখ, মুখ ঠোঁট, জিহ্বা ইত্যাদি ফুলে যাওয়া,
  • চোখে চুলকানি ও খচখচে ভাব হওয়া,
  • চোখ থেকে পানি পড়া, লাল হওয়া ও ফুলে যাওয়া,
  • শুকনো কাশি, হাঁচি,
  • নাকে ও গলায় চুলকানি ও নাক বন্ধ হওয়া
  • বুকে চাপ চাপ লাগা এবং শ্বাসকষ্ট হওয়া
  • পেট ব্যথা লাগা এবং বমি বমি ভাব হওয়া।

এলার্জি দূর করার উপায়:

যেসব খাবার ও ঔষধে এলার্জি হয় সেগুলো এড়িয়ে চলবেন। একেক জনের একেক খাবারে এলার্জি হয়। এজন্য আপনাকে বুঝতে হবে কোন কোন খাবারে আপনার মাঝে এলার্জি দেখা দিচ্ছে। এটি খুঁজে বের করতে পারলে আপনি অনেক সহজেই আপনার এলার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। এছাড়া হঠাৎ করে এলার্জি দেখা দিলে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ঔষধ খেতে পারেন। হাঁপানি অথবা শ্বাসনালীর অন্য কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ মোকাবেলায় শারীরিক ব্যায়াম, যোগব্যায়াম ও শ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন।

একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, যেহেতু এলার্জি কোনো রোগ নয় তাই আপনি কোনোভাবে এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেননা। সময়ের সাথে শাথে এটি কমে যেতে পারে। এজন্য আপনাকে নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।

নাকের এলার্জি: অনেকের এলার্জির কারণে নাক বন্ধ হয়ে যায় এক্ষেত্রে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশ অনেসারে নাকের ড্রপ ও স্প্রে ব্যাবহার করতে পারেন। তবে এই ড্রপ ও স্প্রেগুলো এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যবহার করবেন না। দীর্ঘ সময় ব্যবহারে এলার্জির লক্ষণ আবার ফিরে আসতে পারে।

ত্বকের এলার্জি: যাদের রয়েছে তারা ভালমানের ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ও মলম ব্যাবহার করবেন।

চুলকানি: যাদের চুলকানির সমস্যায রয়েছে তারা ক্যালামাইন লোশন ও ১% মেন্থল ক্রিম ব্যাবহার করলে খুব ভালো উপকার পাবেন। হঠাৎ করে চুলকানি শুরু হলে তাৎক্ষণিক উপসম পেতে তোয়ালেতে বরফ পেঁচিয়ে চুলকানির স্থানে ঠান্ডা সেঁক দিলে চুলকানি কমে যাবে।

এলার্জি প্রতিরোধ করবেন যেভাবে:

এলার্জি থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যেসব বস্তুতে এলার্জি রয়েছে সেগুলো এড়িয়ে চলা। এলার্জি প্রতিরোধে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলুন—

  • এলার্জি দেখা দেয় যে খাবার খেলে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • বাড়ির বাইরে গৃহপালিত পশু-পাখির বাসস্থান তৈরি করুন এবং সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • বাড়ির যে স্থানগুলোতে বেশি সময় কাটানো হয় সেগুলো ধুলামুক্ত ও পরিষ্কার রাখুন। বিছানার চাদর, বালিশ, কাঁথা, লেপের কভার, জানালার পর্দা প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। যেসব জিনিস নিয়মিত ধোয়া যায় না সেগুলো বাসায় যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো। যেমন: কার্পেট।
  • এ ছাড়া বিছানা গোছানো ও ঝাড়া-মোছা করার সময়ে ভালো একটা মাস্ক পড়ুন। রুমো বা আপনার আসপাশে কোনো কিছুতে যেন ধুলা না উরে সে দিকে খেয়াল রাখবেন। রুম ঝারু দেয়ার সময় দুরে অবস্থান করুন অথবা ভেজা জাপর দিয়ে রুম মুছতে বলুন।
  • ডাস্ট মাইট এক ধরনের ছোটো ছোটো পোকা আমাদের চারপাশে, বিছানায় ,ছোফায় অবস্থান করে, এরা আমাদের দেহ দেহে মরা চামড়া বিছানায় পড়লে সেগুলো খেয়ে বেচে থাকে। যেমারণে রুটিন করে বিছানা, ছোফাসহ আপনার ব্যাবহার্য জিনিস পরিষ্কার করুন।
  • বাড়ির পরিবেশ শুষ্ক রাখুন ছত্রাক বা মোল্ড থেকে সুরক্ষার পেতে। পাশাপাশি বাতাস চলাচলের ভালো ব্যবস্থা রাখুন। ঘরের ভেতর কাপড় শুকাবেননা এবং টবে কোনো গাছ থাকলে সরিয়ে ফেলুন।
  • গরম বা ঘাম থেকে যদি আপনার এলার্জি হয় তবে পরিশ্রম করার পর শরীর গরম হলে বা ঘাম ঝরলে বাতাস চলাচল করছে এমন স্থানে থাকবেন এবং সবসময় ঢিলেঢালা পোষাক পরুন।
  • যাদের ঠান্ডা থেকে এলার্জি দেখা দেয় তারা কখনই বৃষ্টিতে ভিজতে এবং পুকুরে গোসল করতে পারবেননা এবং সম্ভব হলে গোসলের সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করবেন।
  • এসব ধাতুর তৈরি আংটি, ঘড়ি, গয়না ইত্যাদি বস্তুতে অনেকের এলার্জি হয়ে থাকে। যদি আপনার ক্ষেত্রেও হয় তবে এগুলো পরিহার করে চলবেন।
  • ফুলের পরাগ রেণু থেকে দুরে থাকবেন। বাহিরে ঘুরতে গেলে এবং শরীরে রেণু লাগলে বাসায় এষে পোশাক পরিবর্তন করে ফেলবেন। এ ছাড়া ঘাসযুক্ত স্থান দিয়ে চলাচল করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন।
  • সাবান, শ্যাম্পু, ফেইসওয়াশ, সুগন্ধি ইত্যাদির কোনোটাতে আপনার এলার্জি হলে এগুলোর বিকল্প কিছু খুজুন অথবা ব্যাবহার কমিয়ে দিবেন।

Next Post Previous Post