হাঁসের ডিমের উপকারিতা

হাঁসের ডিমের উপকারিতা

হাঁসের ডিমের কুসুম মুরগির ডিমের তুলনায় বড় হয়। যেকারণে প্রটিনের পরিমাণ বেশি থাকে মুরগির ডিমের তুলনায়। তাছাড়া ভিটামিন সি ব্যাতীত সকল ভিডামিন থাকে হাঁসের ডিমে। এর পুষ্টিগুণ এবং উপকার অনেক নিচে এগুলো তুলে ধরা হলো:

  • হাঁসের ডিমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি পাওয়া যায় এবং পাকস্থলির অন্যান্য খাবার থেকে ক্যালরি আহরণে সাহায্য করে থাকে।
  • শরীরের ক্লান্তিভাব দূর করতে সাহায্য করে হাসের ডিমে থাকা জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম।
  • ভিটামিন এ: রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে, চোখের স্বাস্থ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন বি১: শরীরে ডিএনএ ও আরএনএ তৈরি হতে সহায়তা করে ও তার পরিমাণ ঠিক রাখে। এই ভিটামিনটি মানসিক চাপ কম করে ও মন-মেজাজ ভালো রাখে।
  • ভিটামিন বি৩: মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দূর করে এবং শরীরের যাবতীয় কার্যকারিতা বজায় রাখে।
  • ভিটামিন বি৫: লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে, কিডনি ভাল রাখে পাশাপাশি যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
  • ভিটামিন বি৬: ত্বকের শুষ্কভাব দূর করে, স্নায়ুবিক দূর্বলতা দূর করে এবং অঙ্গগুলির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • ভিটামিন বি৭: পেশীর টিস্যু নতুনভাবে তৈরিতে এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ও রক্তে চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
  • ভিটামিন বি৯: অ্যানিমিয়া, কিডনি ডায়ালিসিস, অ্যালকোহলিজম বা মদ্যপ অবস্থা, লিভারের রোগ এবং অন্ত্রের দ্বারা অনুপযুক্ত পুষ্টির শোষণ প্রতিকারের জন্য কাজ করে।
  • ভিটামিন বি১২: এর ঘাটতি থাকলে শরীরে রক্তাল্পতা, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। তাই সুস্ব থাকতে নিয়মিত হাঁসের ডিম খাবেন।
  • ভিটামিন ডি: হাড় এবং দাঁত সুস্থ রাখতে কাজ করে। স্বাধারণত ভিটামিন ডি খাবারের মাধ্যমে সচরাচর পাওয়া যায়না, অথচ হাঁসের ডিম খেয়ে সহজেই ভিটামিন ডি পেতে পারেন।
  • হাঁসের ডিমে থাকা ভিটামিন-ই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • মানবদেহে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনগুলির সম্পূর্ণ সংশ্লেষণের জন্য ভিটামিন কে প্রয়োজন হয়। হাকের ডিম থেকে এই ভিটামিনও পাবেন।
  • প্রোটিন শরীরে কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। তাই শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি পূলণে নিয়মিত হাঁসের ডিম খাবেন।
  • হাঁসের ডিম নিয়মিত খেলে এর মধ্যে থাকা ওমেগা-৩ হার্ট অ্যাটক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়ক হয়।
  • সালফারের ঘাটতি হলে হাত পায়ের নখ পাতলা হয়, ফেটে যায় অমসৃণ হয়, এই সালফারের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নিয়মিত ডিম খাওয়ার মাধ্যমে।
  • ডিমে থাকা আয়রন মুখের ক্ষত এবং মনোযোগের ঘাটতি সহ হাইপার-অ্যাক্টিভিটি বা অতি সক্রিয়তার ব্যাধি নিরাময় করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
  • জিংক শরীরের বিপাক, হজম, স্নায়বিক কার্যক্রমসহ অসংখ্য কার্য সম্পাদন করে।
  • ফসফরাস হল একটি ডায়েট সাপ্লিমেন্ট যা রিকেট, কিডনিতে পাথর, এবং যকৃতের রোগ ইত্যাদির মতো রোগীদের জন্য নির্ধারিত হয়। এই রোগগুলির সময় শরীরের মধ্যে ফসফরাসের ঘাটতি পূরণ করার জন্য নিয়মিত হাঁসের ডিম খান।

সিদ্ধ হাঁসের ডিমের উপকারিতা

সিদ্ধ হাঁসের ডিমে পরিপূর্ণ পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। তাছাড়া কাচা ডিম বা আধাসিদ্ধ ডিমে অনেক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে, কিন্তু পরিপূর্ণ সিদ্ধ ডিমে এই ব্যাকটেরিয়া থাকেনা। এছাড়া যারা ডায়েট কন্ট্রোল করছেন তাড়া সিদ্ধ ডিম নিয়মিত খেলে ভাল উপকার পাবেন। এক গবেষণায় জানা যায় সিদ্ধ ডিম ১৫ দিন নিয়মিত ২টি করে খেলে সর্বোচ্চ ১১ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো যেতে পারে।

Next Post Previous Post